
তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি সত্ত্বেও শেষ হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৮৬ শতাংশ হলেও অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে অবশিষ্ট কাজ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) একনেকে অনুমোদন পেলেই পুনরায় কাজ শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ মার্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর একই বছরের নভেম্বরে ভূমি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে আরডিপিপির আওতায় প্রায় ২৪২ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলেই অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং এক বছরের মধ্যে নতুন ক্যাম্পাস হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয় ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৮৬ শতাংশ।
ইতোমধ্যে উপাচার্যের বাসভবন, মেডিক্যাল ও ডে-কেয়ার সেন্টার, একটি প্রধান ফটক এবং সাব-স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, সুইমিং পুল, শিক্ষকদের আবাসন, ডরমিটরি, প্রকৌশল অনুষদ, টিএসসি, অডিটোরিয়াম, আন্তর্জাতিক কমপ্লেক্স, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সড়ক, ড্রেনেজ, লেক, বহিঃবিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, আরডিপিপি অনুমোদনের জন্য কাজ আটকে আছে। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে কয়েকবার মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে অর্থ ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ইউনিট পুনরায় কাজ শুরু করবে।