
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সেখান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযানের খবর পেয়ে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, ঈদগড় এলাকার ‘আবু আম্মদ গুনা ফাতেমা ছড়া’ নামে পরিচিত একটি দুর্গম পাহাড়ি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে সন্দেহভাজনরা পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে—২টি রাইফেলের গুলি, ৪টি শটগানের খালি খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ২টি ট্রিগার বক্স, বন্দুকের নল হিসেবে ব্যবহৃত ৬টি পাইপ, বন্দুক তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, একটি হাওয়ার মেশিন, বাটালি, করাত, হাতুড়ি, প্লাস, ছোট-বড় রেত, শান দেওয়ার মেশিনসহ অসংখ্য অস্ত্র তৈরির উপকরণ।
জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অলক বিশ্বাস জানান, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল—একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করছে। সেই তথ্য যাচাই শেষে পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় থানা পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, উদ্ধার হওয়া সব সরঞ্জাম জব্দ তালিকাভুক্ত করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযানের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।