
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সফর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এরপর ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, দুপুর সোয়া ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে শিবগঞ্জে পৌঁছান সেনাপ্রধান। হেলিপ্যাড থেকে তিনি সরাসরি উপজেলার উথলী রথবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় যান। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত হন।
গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে সেনাসদস্যদের কৌশলগত দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি আরও উন্নত করা। নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক সামরিক কৌশল, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে তিনি মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেন এবং জোহরের নামাজ আদায় করেন। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর বিকেল ৩টার কিছু পরে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান জানান, সেনাপ্রধানের সফরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং দুপুরের খাবার শেষে ঢাকায় ফিরে যান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে থাকে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে সিনিয়র নেতৃত্বের উপস্থিতি সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। গ্রীষ্মকালীন এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে