
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর কুষ্টিয়ায় এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রিয় দলের পরাজয় এবং তা নিয়ে কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব।
সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত রতন (২১) স্থানীয় হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ব্রাজিলের হারের পর বিভিন্ন ব্যক্তির কটাক্ষ ও ট্রলের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
নিজেও ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ায় ঘটনাটি অপূর্বকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খেলাকে শুধুই বিনোদন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান এবং জীবনের মূল্য যে কোনো খেলাধুলার চেয়ে অনেক বেশি—সেই বার্তা তুলে ধরেন।
অপূর্ব লিখেছেন, ‘ব্রাজিল হারায় কুষ্টিয়ার একটা ছেলে সুইসাইড করেছে, রেখে গেছে দুই মাসের শিশুসন্তান। এই নিউজটা দেখে ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। আপনারা খেলাকে বিনোদন হিসেবে নিন। এখানে হার-জিত থাকবেই। প্রিয় দল জিতলে ভালো লাগবে, হারলে খারাপ লাগবে। তবে সেটা জীবনের থেকে যেন বড় না হয়। কারণ দিনশেষে এটা শুধু একটা খেলা।’
তিনি আরও বলেন, খেলাকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ ট্রল থাকতে পারে, তবে তা যেন কখনোই ব্যক্তিগত অপমান, বিদ্বেষ বা মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে না পৌঁছায়।
অভিনেতার ভাষায়, ‘ট্রল খেলার অংশ। তবে অতিরিক্ত ট্রল, অপমান বা হেয় করাটাও বন্ধ করুন। আপনার কাছে এটা মজা হতে পারে, কিন্তু অন্য কারো জন্য সেটা মানসিকভাবে অনেক কষ্টের কারণ হতে পারে।’
সবশেষে জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে অপূর্ব লিখেছেন, ‘একটা দল হারলে আবার জিতবে, আজ ট্রফি না পেলে সামনে আবার পাবে। কিন্তু একটা জীবন চলে গেলে সেটা আর ফিরে আসে না।’
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই খেলাকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনা, কটাক্ষ ও অনলাইন ট্রলের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ক্রীড়াকে সুস্থ বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা আনন্দ, বিনোদন ও ঐক্যের প্রতীক। কোনো দল হারলে তা সাময়িক হতাশা তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা একজন মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা উচিত নয়। খেলাকে কেন্দ্র করে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক আচরণই একটি সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির ভিত্তি।