
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে আর্জেন্টিনা। জয়রথ অব্যাহত থাকলেও নকআউট পর্বে সামান্য ভুলই শেষ করে দিতে পারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অভিযান। তাই মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি।
আজ আটলান্টায় বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে আফ্রিকার শক্তিশালী দলটি, যারা দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও আলবিসেলেস্তেদের বিপক্ষে মাঠে নামছে।
এর আগে দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন দুই বিশ্ব তারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহ।
ক্লাব ফুটবলে বহুবার একে অপরের বিপক্ষে খেললেও জাতীয় দলের জার্সিতে এই লড়াই হবে নতুন অভিজ্ঞতা। তাই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও তুঙ্গে।
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস ও দিয়ারিও ওলে জানিয়েছে, শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ স্কালোনি।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলা ফাকুন্দো মেদিনা, থিয়াগো আলমাদা ও লাউতারো মার্তিনেজ একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং হুলিয়ান আলভারেজকে শুরু থেকে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কালোনি অবশ্য একাদশ নিয়ে এখনো গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার একাদশ প্রস্তুত রয়েছে, তবে খেলোয়াড়দের জানানোর আগে সেটি প্রকাশ করবেন না।
সম্ভাব্য একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো থাকতে পারেন।
মাঝমাঠে দেখা যেতে পারে রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে থাকবেন হুলিয়ান আলভারেজ।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। অন্যদিকে মিসরও মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখছে। সালাহর গতি, গোল করার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে মেসি ও সালাহর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দলীয় ভারসাম্য, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে মেসি-সালাহর এই মহারণ শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।