
বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, আর সেই আবেগের সবচেয়ে বড় দুই কেন্দ্র সবসময়ই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কিন্তু এবারের আসরে শেষ ষোলোর বাধাই পেরোতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফলে লাতিন আমেরিকার কোটি সমর্থকের সব আশা এখন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দিকে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেনি সেলেসাওরা। বল দখল, আক্রমণ গঠন এবং সুযোগ কাজে লাগানো—সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল তারা।
ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন Bruno Guimarães। তার এই পেনাল্টি মিস অনেকটা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে Zico-এর পেনাল্টি মিসের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৭৯ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন Erling Haaland। এরপর দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত করে দেন তিনি।
যোগ করা সময়ে Neymar পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি।
ব্রাজিলের বিদায়ের পর এখন সব আলো গিয়ে পড়েছে Argentina national football team-এর ওপর। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে আজ আটলান্টায় আফ্রিকার শক্তিশালী দল Egypt national football team-এর মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ নয়। রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় দলটির কিছু দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং রক্ষণভাগের সমন্বয়ের অভাব নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।
এই কারণেই কোচ Lionel Scaloni একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও স্থিতি আনতে Leandro Paredes অথবা Giovani Lo Celso-কে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি আক্রমণে Julián Álvarez-কে আরও স্বাধীনভাবে খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে Lionel Messi-র ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
অন্যদিকে মিসরও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। দলটির আক্রমণের মূল ভরসা Mohamed Salah ও Omar Marmoush। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে মিসর ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা Sergio Agüero-ও সতর্ক করেছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তার মতে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। আর মিসরের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সেটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ম্যাচের আগে লিওনেল মেসিও স্বীকার করেছেন যে, নকআউট পর্বের টানা ম্যাচের কারণে ক্লান্তি জমেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলে ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল বিদায় নেওয়ায় আর্জেন্টিনার ওপর মানসিক চাপও বেড়েছে। এখন লাতিন আমেরিকার একমাত্র বড় শক্তি হিসেবে বিশ্বকাপে টিকে আছে তারা। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনা কি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের শক্তিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি মিসর নতুন চমক দেখাবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষে।