
বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালে নতুন এক বিতর্কে সরগরম আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরই ফিফা এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে, যা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে বালোগান প্রথমে গোল করলেও ৬১তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লজ তাকে লাল কার্ড দেখান। পরে শাস্তি হিসেবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না।
তবে পরবর্তীতে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ফিফাকে "সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার" জন্য ধন্যবাদও জানান।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এমন সিদ্ধান্ত ফিফার নিয়ম ও ফেয়ার প্লের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়াও বিষয়টিকে ফুটবলের স্বার্থে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানান।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, শাস্তি স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ফুটবলের সততার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, নিয়ম প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত না হলে খেলাটির প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি কাউকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি; কেবল বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্বাধীন কমিটিই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পুরো ঘটনাকে ঘিরে ফিফার স্বচ্ছতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।