
টানা ভারি বর্ষণ এবং পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, আঙিনা ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে একাধিক গ্রামীণ সড়ক। ফলে স্থানীয়দের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির নির্মিত অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের উদ্যোগেই বাঁধের কিছু অংশ অপসারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে পাহাড়ঘেরা গ্রামগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণের কারণে অধিকাংশ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। উজানের ঢলের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।