
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় পর্যায়) আওতায় নির্বাচিত মৎস্যচাষিদের মধ্যে আধুনিক চাষাবাদ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত উপকারভোগী মৎস্যচাষিদের হাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপজেলার বাঞ্ছারামপুর সদর, পাহাড়িয়াকান্দি, মানিকপুর, তেজখালী এবং আইয়ুবপুর ইউনিয়নের মোট পাঁচজন মৎস্যচাষীকে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক উপকরণ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আক্কাস আলী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ জালাল, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জিসান সরকার। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষিদের আয় বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত মৎস্যচাষিদের উন্নতমানের মাছের খাদ্য, মাছের পোনা, খৈল, চুন ও সার দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুকুরপাড়ে সমন্বিত কৃষি কার্যক্রম উৎসাহিত করতে লালশাক, মিষ্টিকুমড়া ও পুঁইশাকের বীজের পাশাপাশি পেঁপে ও চায়না লেবুর চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
উপকরণ পেয়ে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এ ধরনের সহায়তা নিয়মিত অব্যাহত থাকলে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আয়ও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আরও বেশি মৎস্যচাষীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।