প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং
শিশুর পাইলসের চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানাজানি হল ধর্ষনের ঘটনা৷

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি হাফেজি মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার।
অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং শনিবার (৪ জুলাই) অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে (২০) আটক করা হয়েছে। তিনি বোয়ালখালি উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ ইলিয়াসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটি পাইলসজনিত সমস্যা বলে মনে করেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক এটি পাইলস নয় বলে জানান এবং শিশুটির সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহর দ্বারা ধর্ষিত এবং একই কাজে মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার প্রথমে মামলা করতে আসে। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাঁদের অনুরোধ জানান, যাতে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তাঁরা অভিভাবকদের বোঝান যে মামলা হলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আজিজ উল্লাহকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের থানায় হাজির হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। পরে তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। মামলা হলে এই ঘটনায় তাঁকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা