
চলতি জুলাই-২০২৬ মাসের শুরুতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। মাসের প্রথম চার দিনেই দেশে এসেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর ফলে প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবেশ করেছে।
রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চার দিনের রেমিট্যান্স কিছুটা কম। গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল প্রায় ৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ সামান্য হ্রাস পেলেও প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রতি মাসে দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশে মোট ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে।
জুন মাসের রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে, যার পরিমাণ ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি বছরের আগের মাসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ দেশে এসেছে। মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ওই সময়ের অন্যতম উচ্চ প্রবাহ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তারল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা আরও বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে।
জুলাই মাসের প্রথম চার দিনের তথ্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।