
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুলাই-২০২৬ মাস থেকেই তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর করা হবে। ইতোমধ্যে ইনক্রিমেন্ট সংযোজনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল-এর প্রোগ্রামার (এমপিও) মো. জহির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জুলাই মাসের এমপিও কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করার কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-২০২৬ মাসের ইনক্রিমেন্ট সংযোজনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজও একযোগে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপর অঞ্চল থেকে অনুমোদিত এমপিও আবেদনগুলো চূড়ান্তভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
এই অতিরিক্ত কার্যক্রমের কারণে জুলাই-২০২৬ মাসের অনুমোদিত অনলাইন এমপিও ফাইল নিষ্পত্তি বা ডাউনলোডে কয়েক দিনের বিলম্ব হতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে এই বিলম্ব সম্পূর্ণরূপে ইনক্রিমেন্ট সংযোজনের প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি সাময়িক।
এ বিষয়ে মাউশির পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইনক্রিমেন্ট সংযোজনের কাজ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী এমপিও ফাইল অনুমোদনের কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। নির্ধারিত সময় পরপর ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ায় তাদের মূল বেতনে বৃদ্ধি আসে, যা মাসিক আর্থিক সুবিধার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জুলাই মাস থেকে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার ফলে যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত হারে বৃদ্ধি যুক্ত হবে। যদিও মাউশি এ ঘোষণায় ইনক্রিমেন্টের হার বা আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাই সংশ্লিষ্টদের বেতনে সংযোজিত হবে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার সময় এমপিও প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করেন। কারণ ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে তাদের মাসিক বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক সুবিধাগুলোর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মাউশি জানিয়েছে, কারিগরি কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য এমপিও সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। ফলে সাময়িক বিলম্ব হলেও পরবর্তীতে ইনক্রিমেন্টসহ সঠিক তথ্য অনুযায়ী এমপিও ফাইল চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইনক্রিমেন্ট সংযোজনের এই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। তাই এমপিও ফাইল অনুমোদনে কয়েক দিনের বিলম্বকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর আশা করছে, চলমান কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে এমপিও আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। এর মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের ইনক্রিমেন্টসহ বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।