
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত এই চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির এই সময়কে শুধুমাত্র শান্তির সুযোগ হিসেবে নয়, বরং সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের সময় হিসেবেও দেখছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া জানিয়েছেন, এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় এক মুহূর্তও নষ্ট না করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তিনি শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপের’ জবাব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘চূর্ণবিচূর্ণ ও নির্ণায়কভাবে’ দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রায় ৪০ দিনব্যাপী তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ফলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবারও সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি একদিকে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দিচ্ছে।