
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যের জেরে মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল পিয়া, অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের এবং শহীদ ও আহতদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর, আপত্তিকর ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী, মারিয়া কিসপট্টা, মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল পিয়া এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি।
অভিযোগকারী সংগঠন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য মিল্লাত হোসেন জানান, গত ৩ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে শাহবাগের হাদী চত্বরে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও তাদের নজরে আসে। পরে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের টকশোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পাশাপাশি শহীদ ও আহতদের নিয়ে আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর এবং কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বক্তব্য আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের বক্তব্যের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছয়জনের কারও পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের বক্তব্য বা অবস্থান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত পাওয়া গেলে তা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং আইনগত দিক মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। বর্তমান ঘটনাতেও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযোগ দাখিল করা মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকতে হবে।