প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং
বরেন্দ্র অঞ্চলে বীজতলা ফেটে চৌচির আষাঢ়ের শেষেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেই তেমন বৃষ্টি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আষাঢ় মাসের শেষ সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে কৃষকরা রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি এবং মাটিতে হাল চাষ করতে পারছে না। পানি সংকটে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা।
তৈরি করা আমন ধানের বীজ তোলা বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আষাঢ়ের চড়া রৌদ্রে বিস্তীর্ণ মাঠের মাটি ফেটে শক্ত হয়ে গেছে। ফলে জমিতে হাল চাষ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক গভীর নলকূপ এর উপর নির্ভর করছেন, যা আমন চাষের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর এমনিতেই নিচে। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে সময় মত চারা রোপন করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন প্রান্তিক কৃষকরা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে উপজেলার হাজারো কৃষকের।
এলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, কষ্ট করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টির অভাবে চারাগুলো রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন থাকলে সব চারা মরে যাবে। নতুন করে বীজ ফেলার সময় থাকবে না। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে।
জালাল উদ্দিন বলেন, আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেল অথচ মাঠে কাদা করার মত এক ফোঁটা পানি নেই। আজিজুর রহমান বলেন, হাঁরঘে বরেন্দ্র এলাকায় এমনিতে পানি পাওয়া যায় না। আষাঢ় মাসেও যদি আকাশ থেকে পানি না পড়ে তবে হামরা খাব কি? হামারঘে প্রতিটা দিন দুশ্চিন্তায় কাটছে। আষাঢ়ের শেষেও বৃষ্টিপাত অনেক কম থাকলেও কৃষকদের হতাশা না হওয়ার অনুরোধ করেছেন কৃষি বিভাগ। খরিদ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ইতিমধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সম্পূরক সেচ হিসাবে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ না বাড়িয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করে বীজতলা বাঁচিয়ে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী নাচোলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা