
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে আবারও কঠোর মন্তব্য করেছেন। শনিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, একটি আঘাতেই প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব, তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে না।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এক জায়গায় অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে চাইলে একটি শক্তিশালী আঘাতেই সবাইকে হত্যা করা সম্ভব। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, কারণ তাতে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য কাউকে পাওয়া যাবে না।
তার মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে এবং সেটিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র ধৈর্য ধরছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। যদিও এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা চলমান থাকায় উভয় পক্ষ আলোচনায় বিরতি নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বিষয়েও একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাক্ষাৎকারে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সেখানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং শোক প্রকাশ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার ধারণা ছিল, খামেনিকে দেশের মানুষ খুব বেশি পছন্দ করত না।
তবে তিনি পরে যোগ করেন, সেই শোক প্রকাশ কতটা আন্তরিক ছিল, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার ভাষায়, “কে জানে, ওগুলো হয়তো লোকদেখানো কান্না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য একদিকে যেমন শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তাও বহন করে।