
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন ইস্যুতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার ফলেই ইউরোপ ধীরে ধীরে ‘তৃতীয় বিশ্বের’ বৈশিষ্ট্য ধারণ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া দেশটির জন্য সঠিক সময়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।
শনিবার (৪ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, উন্নয়নশীল বিশ্বের অপরাধীদের আশ্রয় দিলে একটি উন্নত দেশও শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হতে পারে। তার ভাষায়, ইউরোপ বর্তমানে সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে এবং এর প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের এই অবস্থান নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দাবি করে আসছেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে বর্তমান দায়িত্বকালেও তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর ভিসা নীতির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া সাম্প্রতিক পোস্টে তিনি তার বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগান "Make America Great Again (MAGA)"-এর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়, আইনশৃঙ্খলা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং তার প্রশাসন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
অভিবাসন প্রসঙ্গের পাশাপাশি ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থারও সমালোচনা করেন। গত ৮ জুন এইচ-১বি (H-1B) কর্মসংস্থান ভিসার ওপর তার প্রশাসনের আরোপিত এক লাখ মার্কিন ডলারের আবেদন ফি আদালত বাতিল করে দেয়। আদালতের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প এটিকে "উন্মাদনাপূর্ণ" বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে H-1B ভিসা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার এবং উচ্চশিক্ষিত আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার বিদেশি দক্ষ কর্মীকে কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে। ট্রাম্প বরাবরই এই কর্মসূচিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন, যাতে দেশীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ে।
এছাড়া জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়েও নিজের আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। গত এপ্রিলে প্রকাশিত একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বিদেশি নাগরিক গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন শুধুমাত্র তাদের সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। ট্রাম্পের দাবি, এই আইনের অপব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্ব নীতিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতেও তার প্রশাসন এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
ইউরোপের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে ইউরোপের বহু দেশে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে পরিচালনা করা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিবাসন, ভিসা নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তার অবস্থান বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও তিনি এসব ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে মনে করেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ইউরোপের উদাহরণ টেনে অভিবাসন নীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।