
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
Article (600–700 words):
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই অঞ্চলের মানুষজন ঘরবাড়ির সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছেন এবং জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ন্যাশনাল আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দাকে অন্তত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ঝড়টি সরাসরি আঘাত না করলেও এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, টাইফুন বাভি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) জানায়, তখন ঝড়টির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় ২০৩ কিলোমিটার। এই গতিবেগই ঝড়টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
জেটিডব্লিউসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমমুখী অগ্রসর হওয়া বাভি শিগগিরই সুপার টাইফুনে পরিণত হতে পারে। তখন এর বাতাসের গতি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তা আরও বেড়ে ঘণ্টায় ২৭৮ কিলোমিটারে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মাত্রার ঝড় ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য, যা ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলেও সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাভি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানতে পারে। ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, গাছপালা উপড়ে পড়া, উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা মজবুত করা, জরুরি খাদ্য ও পানির মজুত রাখা, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে রাখা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নিচু এলাকার মানুষদের আরও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ বলা হয়। এই ধরনের ঝড় সাধারণ টাইফুনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর প্রভাবও হয় ভয়াবহ। তাই বাভির মতো ঝড়কে ঘিরে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। ফলে এমন ঝড়ের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক সতর্কতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ প্রস্তুতিও জরুরি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় অবকাঠামো, আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি সেবাব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, সুপার টাইফুন বাভি এখন গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝড়টি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি নিয়ে আঘাত হানে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।