
রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভোরে এই হামলা সংঘটিত হয় বলে জানানো হয়। ঘটনাটি ঘিরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রুশ প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের ড্রোনগুলো শহরের কিরোভস্কি জেলার একটি বন্দরভিত্তিক তেল টার্মিনালকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ওই অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানিয়েছেন, শহরটি একযোগে বড় ধরনের ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন পিটারহফ এলাকায় বিধ্বস্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্র ও টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে হামলার পর বন্দরের তেল টার্মিনালে আগুন লাগার ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেছে, তবে হামলার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ব্যবহৃত বন্দরভিত্তিক তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, শুধু সেন্ট পিটার্সবার্গ নয়, রাশিয়ার ক্রনশটাড নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। এই এলাকা ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন সক্ষমতার মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে তেল টার্মিনালে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে রুশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক পৃথক বিবৃতিতে দাবি করেছে, শনিবার রাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল, ২০১৪ সালে সংযুক্ত ক্রিমিয়া অঞ্চল এবং আজভ ও কৃষ্ণ সাগর এলাকায় মোট ৩৮৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ড্রোন হামলার চেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ও পাল্টা প্রতিরক্ষা কার্যক্রম রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন ধাপকে নির্দেশ করছে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তি এখন মূল যুদ্ধকৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা দুই দেশের মধ্যে সংঘাতকে আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেল অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই ড্রোন হামলাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও বিস্তৃত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।