
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসভবনে গেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এই বরেণ্য শিল্পীর চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তারা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শবনম মুশতারী দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিভ্রমজনিত রোগ ডিমেনশিয়াসহ বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অসুস্থতার খবর জানার পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি বাসভবনে গিয়ে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শিল্পীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন। একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে শবনম মুশতারীর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই সহায়তা শিল্পীর জরুরি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সায়েলা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শবনম মুশতারীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থেকে সরকারের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের নজরুলসংগীত চর্চায় শবনম মুশতারীর অবদান দীর্ঘদিনের। তার কণ্ঠে অসংখ্য নজরুলসংগীত শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি একজন সম্মানিত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সংগীতচর্চার পাশাপাশি নজরুলের গান সংরক্ষণ ও প্রচারে তার অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
নজরুলসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাতীয় নজরুল পুরস্কার লাভ করে তার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জিত হয়।
পারিবারিক পরিচয়েও তিনি একটি সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। তিনি কবি তালিম হোসেন এবং কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক বেগম মাফরুহা চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ কন্যা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে নজরুলসংগীতকে নিজের শিল্পজীবনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে দেশের বরেণ্য শিল্পীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে দেখছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা গুণীজনদের অসুস্থতার সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও খোঁজখবর নেওয়া রাষ্ট্রের ইতিবাচক দায়িত্বের প্রতিফলন।