
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় একটি ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরে আরও একটি ইউনিট যোগ দেয়। পুরান ঢাকার সরু রাস্তা, ঘনবসতি এবং যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হয় বলে জানা গেছে। তবে দ্রুত সাড়া দেওয়ায় আগুন যাতে আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চকবাজার পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা। এখানে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন এবং গুদামঘর পাশাপাশি অবস্থান করে। ফলে এ ধরনের এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই আশপাশের মানুষ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। অনেকেই ভবনের ভেতরে থাকা লোকজনকে দ্রুত বের করে আনতে সহায়তা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আগুনের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি আশপাশের ভবনগুলোতে পানি ছিটিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর কাজও চলছে। পুরান ঢাকার মতো এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সরু গলি, পুরোনো ভবন, বৈদ্যুতিক সংযোগের জটিলতা এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চকবাজার এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই দোকানপাট বন্ধ করে অনেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবনের ছাদে উঠে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন তারা। এখন মূল লক্ষ্য হলো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা।
এদিকে, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস লিকেজ কিংবা অন্য কোনো কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সাধারণত আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক কারণ নির্ধারণ করেন। এ ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকায় আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। অতীতে এ ধরনের একাধিক অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে পুরোনো ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, জরুরি বহির্গমন পথ এবং বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুনের তীব্রতা, ভবনের ভেতরের অবস্থা এবং দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।
সব মিলিয়ে, চকবাজারের এই অগ্নিকাণ্ড পুরান ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত সাড়া দেওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও কিছু সময় লাগবে। বিস্তারিত আসছে।