
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পানি সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে সিরিয়ার প্রথম জাতীয় প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)। শুক্রবার সিরিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগ জানায়, তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে গত ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের ৪৫তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সিরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পরিবেশবিষয়ক উপমন্ত্রী ইউসুফ শরাফ।
প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে প্রায় ছয় মাস ধরে কারিগরি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কারিগরি ও বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করে।
এটি গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে সিরিয়ার প্রাপ্ত প্রথম অর্থায়ন। ফলে আন্তর্জাতিক এই জলবায়ু তহবিলের সঙ্গে দেশটির সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সিরিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ করবে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের সীমিত পানিসম্পদের আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানির সরবরাহ জোরদার করা, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কৃষি ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই অর্থায়ন পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন তহবিল। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি দেশে ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে সিরিয়ার পানি সংকট এখনো গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। নতুন এই প্রকল্প সেই সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।