
বরিশালে আগ্নেয়াস্ত্র, সড়ক অবরোধ, ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার আসামির তালিকায় চারজন মৃত আওয়ামী লীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মরজুক আব্দুল্লাহ। অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১০ ও ১৬ জুন আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং বাধা দিতে গেলে ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে মামলার আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের চারজন প্রয়াত নেতার নাম রয়েছে। তারা হলেন খন্দকার রেজাউর রহমান, এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী, আবুল ফারুক হুমায়ুন এবং আলী হাওলাদার। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঘটনার কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন।
এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় যেসব তারিখে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিনগুলোতে নগর এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য তাদের কাছে নেই।
মামলার বাদী মরজুক আব্দুল্লাহ বলেন, আসামিদের তালিকা তিনি একা প্রস্তুত করেননি। তাই ভুল হওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেছেন, মামলার ঘটনার বিবরণ এবং উল্লেখিত তারিখগুলো যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের নাম কীভাবে আসামির তালিকায় এসেছে, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।