
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনার একপর্যায়ে দুই নেতা অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও মতবিরোধ সামনে এলেও সর্বশেষ এই ফোনালাপকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফোনে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বৈশ্বিক স্বাধীনতার রক্ষাকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি এক পডকাস্টে নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তারা একসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন এবং নেতানিয়াহুকে তিনি পছন্দ করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি’ এবং নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে দুই নেতার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। গত ১ জুন লেবাননে হামলার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকারও করেন যে ওই সময় কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া গত ৮ জুনের এক ফোনালাপে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল মার্কিন সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এরই মধ্যে গত ২৬ জুন লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইসরায়েল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনাও কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ইরানের আলোচকদের ওপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার যে দাবি করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘বাস্তবতার সম্পূর্ণ মনগড়া বিবরণ’ বলে অভিহিত করেন।
যদিও হোয়াইট হাউস এখনো এই ফোনালাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবু ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, পূর্বের মতবিরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক এখনো দৃঢ় অবস্থানেই রয়েছে।