
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফিফা র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ শুরু থেকে দারুণ লড়াই উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখলেও প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে কেপ ভার্দে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের নিখুঁত লং পাস নিয়ন্ত্রণে এনে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি।
এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ২০ গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৬—দুই ভিন্ন বিশ্বকাপে অন্তত সাতটি করে গোল করার নজিরও নিজের নামে লেখান।
বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৪তম মিনিটে দিরয় দুয়ার্তের গোলে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ সেভে বারবার হতাশ হতে হয় মেসিদের। মেসির শট, ফ্রি-কিক এবং এনজোর হেড—সবকিছুই ঠেকিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান তিনি।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই কর্নার থেকে পাওয়া বলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস গোল করে আবারও এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। তবে লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ১০৩তম মিনিটে সিডনি লোপেজ কাবরালের দুর্দান্ত শটে আবারও ২-২ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ১১১তম মিনিটে। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার বারগেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হয়। সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরেকটি সমতার সুযোগ পেলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেস দুর্দান্ত সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ফলে নাটকীয় এক লড়াই শেষে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।