
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার মরদেহ আনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই শোকানুষ্ঠান ছয় দিনব্যাপী চলবে এবং তেহরানের পাশাপাশি কোম, মাশহাদ ও ইরাকের নাজাফেও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামি আলেম ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এছাড়া ইরানে স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিশেষ দূতরাও উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
বাঘাই আরও জানান, ইরানের দৃষ্টিতে সাম্প্রতিক সামরিক হামলাকে সমর্থন করেছে—এমন কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে এই আনুষ্ঠানিকতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বজনেরা উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশের সব নাগরিককে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মত, আদর্শ বা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবাই যেন মর্যাদাপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। তবে এই অংশগ্রহণের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসূচির অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি সংঘটিত সামরিক হামলায় নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে।