
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ সবার এবং এর স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তার মতে, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়ে সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে। তবে এ বিষয়ে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।
নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী খননের ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল সব সময় পাওয়া যায় না। তার মতে, পরিকল্পিত সময়ে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করলে নদীর নাব্যতা রক্ষা, পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার সহজ হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশের অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে অধিকাংশ অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা প্রকল্পের গুণগত মান ও জবাবদিহির ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি পরিকল্পিত ব্যয় ও সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
নেত্রকোনার উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, প্রবাল, সিলিকা বালু, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং মৎস্যসম্পদের মতো খাতকে কেন্দ্র করে জেলাটিতে শিল্পায়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে দুর্নীতি, ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ছাদেক আহমেদ হারিছের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।