
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল ইমু ভিডিও কলে দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিনব কৌশলে সংঘটিত এ ঘটনার শিকার হয়েছেন উপজেলার ভাটিসাভার গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম নাঈম (২৪)। ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, মনিরুল ইসলাম নাঈম দুই দিন আগে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৮ হাজার টাকায় একটি ব্যবহৃত টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসির মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। নতুন কেনা মোটরসাইকেলটি নিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন এবং সেটি বাড়ির সামনে রেখে পাশের বাড়ির একটি জানাজার নামাজে অংশ নিতে যান।
নামাজ শেষে ফিরে এসে তিনি দেখেন, মোটরসাইকেলটি সেখানে নেই। পরে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চুরির কয়েক ঘণ্টা পর তার মামার ইমু নম্বরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি দাবি করেন, ৫০ হাজার টাকা দিলে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস না করলেও কিছুক্ষণ পর ইমুতে ভিডিও কল করা হয়।
নাঈমের দাবি, ভিডিও কলে একটি শোরুমসদৃশ স্থানে রাখা মোটরসাইকেলটি দেখানো হয়। তিনি জানান, ভিডিওতে দেখা মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট তার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলের নম্বরের সঙ্গে পুরোপুরি মিল ছিল। এতে তিনি নিশ্চিত হন যে সেটিই তার মোটরসাইকেল।
পরে তিনি জানতে চান, কোথায় এবং কীভাবে টাকা দিলে মোটরসাইকেলটি ফেরত পাওয়া যাবে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন কলকারী জানায় যে পরে সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো ফোন না এলেও নাঈম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার দাবি, জবাবে লেখা হয়, ‘সমস্যা নেই, গাড়ি পাবেন; আগে একটু ঘুমিয়ে নিই।’
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সম্পদ নিরাপদ স্থানে রাখার পাশাপাশি অপরিচিত নম্বর থেকে মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।