
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার পথে বাসটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্গম এলাকায় বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়। এরপর আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও আটজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসাবধানতা নাকি সড়কের অবস্থা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলের সড়কগুলো অনেক ক্ষেত্রে সরু, বাঁকযুক্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীবাহী বাস চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি দীর্ঘদিনের।
এবারের এই দুর্ঘটনাও পাকিস্তানে চলতি বছরের অন্যতম প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।