
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে দুই কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)। এ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রায় এক কোটি বাসিন্দার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও প্রায় এক কোটি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে আসতে পারেন। এতে জানাজার আয়োজনটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির তথ্যমতে, ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে অনুষ্ঠিতব্য বহুদিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তার মৃত্যুর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজার কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তার ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও জানাজা ও দাফনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় আয়োজন শুধু একজন সাবেক সর্বোচ্চ নেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।