
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত অর্থ-সম্পদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মূলত তার ছেলে এরিক ট্রাম্পের ওপর রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে ২০২৫ সালে তার ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পদ বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেগুলোর তদারকি করেন এরিক ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে এরিক এগুলো দেখাশোনা করে। আমি এসব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি না। এগুলো সেমি-ব্লাইন্ড ট্রাস্ট বা ব্লাইন্ড ট্রাস্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়।”
এর আগে হোয়াইট হাউসও জানিয়েছিল, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয়গুলো তার সন্তানরাই পরিচালনা করেন। তবে এবার ট্রাম্প নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন, এই দায়িত্বের মূল অংশ পালন করছেন তার ছেলে এরিক ট্রাম্প।
এদিকে ট্রাম্পের প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিপুল আয় এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করেছে।
প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্প-সমর্থিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর টোকেন বিক্রি থেকে প্রায় ৫১৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির হোল্ডিং কোম্পানির ইকুইটি বিক্রি থেকে আরও প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার আয় এসেছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এসব লেনদেনে কোনো অবৈধ বা অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। তার দাবি, সব কার্যক্রম আইনগত কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাম্পের আর্থিক বিবরণী প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সমর্থকরা এটিকে নিয়মতান্ত্রিক আর্থিক প্রকাশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।