
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানী তেহরানে শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় আলেম এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কফিন উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়। কালো পোশাক পরিহিত অসংখ্য শোকাহত মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানের সময় প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে তার কফিন প্রদর্শন করা হয়।
ইরান সরকার জানিয়েছে, ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতি জনগণের সমর্থন ও আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে আগামী কয়েক দিনে দেশজুড়ে ব্যাপক শোকমিছিল ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কুম, মাশহাদ এবং ইরাকের কয়েকটি ধর্মীয় শহরেও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা দেশবাসীকে ব্যাপকভাবে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই আয়োজন আন্তর্জাতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শেষকৃত্যের মূল অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত নাও থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চীন, ভারতসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিদল তেহরানে উপস্থিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার জানিয়েছে।