
আগামী অক্টোবর মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে, যাতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে জানিয়েছেন যে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই যাতে নির্বাচন আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের আওতায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের ইউনিয়ন পরিষদ সংক্রান্ত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হয় ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হয় আরও ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
তবে মামলা, সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পৌরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ অনুযায়ী দেশে মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা পরিষদের ক্ষেত্রে নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০০টি। বর্তমানে কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সবগুলো উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনেও বর্তমানে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, সবগুলো সিটি করপোরেশনই নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।