প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 2, 2026 ইং
কবরস্থান থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় অজ্ঞাত নারীকে উদ্ধার; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি কবরস্থান থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রায় ২৮ বছর বয়সী ওই নারীকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, নারীর পাশ থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার হওয়ায় প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি বিষপান করেছেন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৪টায়ও ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যাংগার দোকানসংলগ্ন কবরস্থান থেকে স্থানীয়রা অজ্ঞাত ওই নারীকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে দ্রুত তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উদ্ধারের সময় উপস্থিত স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, “নারীর পাশ থেকে একটি বিষের বোতল পাওয়া যায়। তাই সবাই ধারণা করে তিনি বিষপান করেছেন। পরে আমরা তাকে দ্রুত পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমকে বিষয়টি জানাই। এরপর আমরা হাসপাতাল থেকে চলে আসি।”
স্থানীয়দের এমন ধারণার বিপরীতে চিকিৎসকরা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব জানান, “অজ্ঞান অবস্থায় নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়া বা বিষপানের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার মুখ দিয়ে ফেনা এবং মানববর্জ্য বের হয়েছে। পাশে বিষের বোতল পাওয়া গেলেও শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
পটিয়া পৌরসভা গাউছিয়া কমিটি মানবিক টিমের সদস্যসচিব মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক বলেন, “পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিচয়হীন ওই নারীর চিকিৎসার দায়িত্ব মানবিকভাবে গ্রহণ করি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের উদ্যোগে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”
পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমীর ভট্টাচার্য বলেন, “এ মুহূর্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা