
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানায় দায়ের হওয়া মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আলীম আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, রবিউল ইসলাম রবিন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা এবং ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর বিআরটিএ এলাকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রজনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এতে মাহবুব হাসান মামুন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য, মামলায় রবিউল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই এবং তিনি ইতোমধ্যে একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন। তারা আরও দাবি করেন, উচ্চ আদালতের একটি রুলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশনা রয়েছে। সেই রুল আদালতে উপস্থাপন করা হলেও তাকে হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাহবুব হাসান মামুন। পরে একই বছরের ২১ নভেম্বর নিহতের স্ত্রী সাহীনুর কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে রবিউল ইসলাম রবিনকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।