
আগামী বছরের পবিত্র হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে হজ নিবন্ধনের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা বাংলাদেশি পাসপোর্ট কিংবা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর জমা দিতে হবে।
একই পরিবারের একাধিক সদস্য হজে যেতে চাইলে তারা চাইলে একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হজের আর্থিক লেনদেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সরকারি কিংবা বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া যারা পূর্বে প্রাক-নিবন্ধনের সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দেননি, তাদের নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সেই তথ্য যুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা না হলে পরবর্তী হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আগ্রহী হজযাত্রীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে হজের সময়সূচি তুলে দেন।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজের ভিসা ইস্যু শুরু হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রী বহনকারী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হবে। আর চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।