
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। একই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) স্কোর ছিল ১৪২। এ মাত্রার বায়ুমানকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সময়ে ১৪৯ এএকিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল কিনশাসা। তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, যার বায়ুমান স্কোর ১১৭।
আইকিউ এয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, এএকিউআই ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ভালো বলে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরে শারীরিক কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়।
এছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়, যা পুরো নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, হৃদ্রোগ, হাঁপানি এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যজটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বাইরে গেলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।