
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচ ঘিরে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ফলাফল নিয়ে ভিন্নধর্মী এক মন্তব্য করে নজর কেড়েছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে ম্যানুয়েল রামোস-হোর্তা। তার বিশ্বাস, শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখাতে পারে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে।
ফিফা র্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে আর্জেন্টিনা ম্যাচটির স্পষ্ট ফেবারিট। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টানা তিনটি ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে উঠেছে। দলটির আক্রমণভাগও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গোলদাতার তালিকায় ছয় গোল নিয়ে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে।
অন্যদিকে কেপ ভার্দে তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ দল হলেও এবারের বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই দলটির সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে ম্যাচের আগে জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস কেপ ভার্দে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যাশার চাপ কম থাকলেও জয়ের প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।
এবার একই ধরনের মন্তব্য করেছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে ম্যানুয়েল রামোস-হোর্তাও। তিনি বলেন, তার ধারণা এই ম্যাচে লিওনেল মেসিকে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেতে হতে পারে এবং কেপ ভার্দের ফুটবলারদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়বে।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কেপ ভার্দের মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার পেছনে রয়েছে তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে ‘কাচুপা’ নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং কঠিন প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাদের সহনশীলতা বৃদ্ধি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রামোস-হোর্তা আরও বলেন, অনেকেই কেপ ভার্দের সম্ভাবনায় বিশ্বাস না করলেও তিনি শুরু থেকেই দলটির ওপর আস্থা রেখেছেন। তার মতে, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতির মাধ্যমেই কেপ ভার্দে ইতোমধ্যে একটি বড় অর্জন করেছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ে পরিসংখ্যান এখনো আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে, অন্যদিকে ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দে বড় কোনো অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়, মায়ামি স্টেডিয়ামে। ম্যাচের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ভবিষ্যদ্বাণী নাকি বাস্তবতা—কোনটি সত্যি হয়।