
দেশের ঔষধ খাতে নীতিগত কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৪ সদস্যের এ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
নতুন পরিষদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও সদস্য করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে ২৯ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি পরিষদ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। পরবর্তীতে তা সংশোধন করে নতুন সদস্য যুক্ত করে ২৪ সদস্যের পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আহ্বান করা যাবে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।
নতুন পরিষদে সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।
এ ছাড়া পরিষদে সদস্য হিসেবে থাকবেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন ও প্রতি দুই বছর অন্তর তা হালনাগাদ, ঔষধ ও কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন এবং রপ্তানিসংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দেশের ঔষধ খাতের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।