
সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় ৪০০ জালিবোটসহ সব ধরনের লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা। এর ফলে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। নৌযান ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
ভোর থেকেই সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে খুলনার মোংলার পিকনিক কর্নারে ভিড় করতে থাকেন পর্যটকরা। তবে সেখানে এসে তারা জানতে পারেন, জালিবোটসহ সব নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
যশোর থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা সাজেদ রহমান বলেন, গাড়ি থেকে নেমেই শুনেছেন সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবার নিয়ে আনন্দ ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ধর্মঘটের কারণে ফিরে যেতে হচ্ছে।”
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, “এখানে এসে দেখি কোনো নৌযান চলছে না। সুন্দরবনে যাওয়া সম্ভব হলো না। এখন হতাশা নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।”
খুলনার চুকনগর থেকে একটি বাসে ৫৪ জন নিয়ে আসা রেজাউল করিম বলেন, “সকলে মিলে সুন্দরবন দেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এসে দেখি সব নৌযান বন্ধ। আমাদের পুরো ভ্রমণটাই ব্যর্থ হলো।”
নৌযান মালিকদের দাবি, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি নিয়েছেন। মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) সম্প্রতি পর্যটনবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে মালিকরা নিজ উদ্যোগে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তিনি জানান, ধর্মঘটের আওতায় প্রায় ৪০০ নৌযান রয়েছে।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকে সেখানে কোনো নৌযান কিংবা পর্যটক প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি জানান, রোববার নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের জেরে নৌযান মালিকরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
অন্যদিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে যাতে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। তাঁর দাবি, এই অভিযান মূলত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, রোববার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদেই ক্ষতিগ্রস্ত নৌযান মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এদিকে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের পর্যটন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।