
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফার অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে—সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, সমঝোতা স্মারকে কেবল ৬০ দিনের জন্য সামুদ্রিক সেবা ফি-তে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে তেহরান নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছে।
গালিবাফ হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ইস্যুতে কোনো বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে ইরান ৪ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে ইরানের বৈধ ও অখণ্ডনীয় অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ অবস্থান থেকেও দেশটি সরে আসবে না।
গালিবাফের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আরোপিত সব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সমঝোতা স্মারকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়নের আগে চূড়ান্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব নয়। এসব ধারার মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানি নিশ্চিত করা, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়।
এদিকে তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনিও দাবি করেছেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শর্ত ছাড়াই ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার কথা ছিল। তবে তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন এখনো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যকার চূড়ান্ত সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর।