
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। সর্বশেষ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২৩ বার পেছানো হলো।
সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর ও রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাঁদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শুরুতে শেরেবাংলা নগর থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় তদন্ত চললেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গতি আনতে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশনা দেন।
পরবর্তী আদেশের জন্য হাইকোর্ট ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এরপর ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় নিহত সাংবাদিক দম্পতির পরিবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।