
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় নকআউট পর্বে উঠলেও দলকে আত্মতুষ্ট না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, গ্রুপ পর্বের অর্জন এখন অতীত। সামনে শুরু হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই একটি ফাইনালের সমান।
জর্ডানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর স্কালোনি বলেন, নকআউট পর্বে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। আগামী শুক্রবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জন্য শুরু হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে সতেজ রাখা। সেই পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে দলটি, একই সঙ্গে মূল একাদশের পাশাপাশি রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দেরও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্কালোনির মতে, নকআউট পর্বে সেই হিসাব আর কাজ করবে না। এখানে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। একটি ভুল, একটি সেট-পিস কিংবা টাইব্রেকারের ফলই নির্ধারণ করে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের ভাগ্য। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।
আর্জেন্টিনা কোচের ভাষায়, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন অধ্যায়ে আর কোনো দ্বিতীয় সুযোগ থাকবে না। পয়েন্ট টেবিলের হিসাব বা পরবর্তী ম্যাচের সম্ভাবনা—কিছুই থাকবে না। তাই প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনালের গুরুত্ব দিয়ে খেলতে হবে।
গ্রুপ পর্বে স্কালোনি বিভিন্ন ম্যাচে রোটেশন নীতি অনুসরণ করেছিলেন। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে বিকল্পদেরও সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই কৌশল বদলে যেতে পারে। নকআউট ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি।
দলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুরো টুর্নামেন্টে ক্যানসাসকে নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছে আর্জেন্টিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারলে তবেই শেষ চার ও সম্ভাব্য ফাইনালের জন্য আটলান্টায় যাত্রা করবে দলটি।
এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। রক্ষণভাগও বেশ সংগঠিত। তবে স্কালোনির জন্য সবচেয়ে বড় ইতিবাচক সমস্যা তৈরি হয়েছে আক্রমণভাগে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে মেসির সঙ্গে প্রথম একাদশে কে খেলবেন—লাউতারো মার্তিনেজ নাকি হুলিয়ান আলভারেজ—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে লাউতারো কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ইনজুরি কাটিয়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো অনুশীলনে ফিরলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাকে শুরু থেকেই দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা ফেবারিট হলেও কেপ ভার্দেকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না দলটি। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার অন্যতম চমক এই দলটি ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য অঘটনের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শক্তিশালী দলগুলো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে বিদায় নিয়েছে।
স্কালোনির বিশ্বাস, অতীতের সাফল্য নয়, নির্দিষ্ট দিনে সেরা পারফরম্যান্সই নকআউট পর্বে পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই গ্রুপ পর্বের সাফল্য ভুলে নতুন উদ্যমে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা। তাদের লক্ষ্য এখন একটাই—প্রতিটি ম্যাচকে ফাইনাল ভেবে খেলে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।