
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার রাশিয়ান হাউস। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত প্রতিষ্ঠানটির অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়া সরকারের বরাদ্দকৃত বৃত্তির সংখ্যা ২০০-তে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি গবেষণা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচিতেও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খেলভনয় বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার শিক্ষাগত সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি জানান, আগামীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রুশ ভাষা প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রুশ ভাষা শিক্ষার প্রসারে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসআটমের বিশেষ প্রকল্প ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে একজন করে শিক্ষার্থী উত্তর মেরুতে বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তারা রাশিয়ার বিশেষ পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজ ‘৫০ লেট পোবেদি’-তে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। ‘ওপেন ইন্টারন্যাশনাল বায়োলজি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর প্রজেক্ট রাউন্ডে ‘টিম বাংলাদেশ’ বিজয় অর্জন করেছে। একই প্রতিযোগিতায় বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মদ ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
রাশিয়া সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচিগুলোর বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও তরুণ পেশাজীবীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিময় কার্যক্রমে বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২৬-এ অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল, ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম, নিউ জেনারেশন প্রোগ্রাম এবং ‘চিলড্রেন ফর পিস’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ’ এবং ‘ওপেন ডায়ালগ’ কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়। এবারের ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপে নির্বাচিত বাংলাদেশি সাংবাদিক জিন্নাত আরা জাসোয়াকে অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি (RUDN University)-এর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রাশিয়ার উচ্চশিক্ষার মান, আবাসন ব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
সমাপনী পর্বে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশন দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা ‘রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর’ শীর্ষক একটি বিশেষ উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাশিয়ান হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়, ক্রীড়া কূটনীতি, চলচ্চিত্র উৎসব, শিল্প প্রদর্শনী, সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং যুব বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।