
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর নাছির উদ্দিন প্রধান ওরফে আলমাছ প্রধানীয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর পূরণ গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির পাশের একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাছির উদ্দিন প্রধান ওই গ্রামের বাসিন্দা ওসমান আলী প্রধানীয়ার ছেলে। তিনি স্নাতক (বিএ) পাস ছিলেন এবং কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিহতের ভাতিজা মামুন প্রধানীয়া জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার বিকেলে গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন প্রধানীয়ার ছেলে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে একটি লুঙ্গি দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাছাকাছি গিয়ে তিনি একটি গলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কাশিমপুর পূরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র বলেন, নাছির উদ্দিন প্রধান বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির একাধিকবার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এলাকায় সৎ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার আছরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।