
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্প (দ্বিতীয় ফেজ) বাস্তবায়নে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন না করেই ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে তালিকা তৈরি করে প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে। তদন্তে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি। কয়েকজন তালিকাভুক্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা প্রকল্পের আওতায় কোনো ধরনের সুবিধা পাননি বলে দাবি করেছেন।
তদন্ত শেষে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রস্তুত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়।
সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা দাখিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নথিপত্র পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা জানান, তদন্ত কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।