
মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আলোকিত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি বলেন, মানবাধিকার কেবল আলোচনার বিষয় নয়; ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের প্রতিটি স্তরে এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবে আয়োজিত ‘Human Rights: From Theory to Practice’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাব এবং ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস (Danish Institute for Human Rights)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের দর্শনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক সত্তা। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার ভিত্তি গড়ে ওঠে মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর। তিনি বলেন, সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়তে পারে। এ কারণে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—সব পর্যায়ে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধিকারভিত্তিক সংগ্রাম এবং সামাজিক পরিবর্তনের ধারায় তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতেও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে উপ-উপাচার্য বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, ভবিষ্যতেও মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি নিয়মিত বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি বই মানুষের চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ আরও সচেতন, দায়িত্বশীল এবং মানবিক হয়ে ওঠেন। তিনি কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ নয়, অন্যদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন নাগরিক গড়ে তোলা এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাব ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানবাধিকারকে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মানবাধিকার, নাগরিক দায়িত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবিক নেতৃত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের কর্মশালা তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।