
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক পরিসরে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার ৪ হাজার ৩০৫ জন কৃষকের হাতে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের বীজ, সার, চারা এবং কৃষি সহায়ক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক অশোক বিক্রম চাকমা। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজের এন-৫৩ জাতের বীজ, হাইব্রিড মরিচের বীজ, রোপা আমন ধানের উন্নত জাতের বীজ, গ্রীষ্মকালীন উফশী ও হাইব্রিড সবজির বীজ, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন, বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা ও কলম, লেবুর চারা এবং মোট ১০ মেট্রিক টন রাসায়নিক ও জৈব সার বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, সরকারি এ সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তোলা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে কৃষকরা বেশি উৎপাদন অর্জন করতে পারবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় কমিয়ে অধিক লাভ নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত কৃষিযন্ত্র এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির বিকল্প নেই। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তিনি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ অনুযায়ী কৃষিকাজ পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কৃষি প্রণোদনার আওতায় বিতরণ করা এসব উপকরণ কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।