
জুলাই মাসের জন্য দেশের জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে নির্ধারিত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের মূল্যই আগামী ১ জুলাই থেকে পুরো মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতে জুলাই মাসের জন্য বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রাখা হয়েছে। ফলে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এর আগে গত ৩১ মে সরকার সর্বশেষ জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ পর্যালোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জুলাই মাসেও একই মূল্য বজায় থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না হওয়ায় বর্তমান মূল্য কাঠামো বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার গত বছরের মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক বিবেচনা করে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম মাসভিত্তিক সমন্বয় করা হচ্ছে।
এদিকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দামও প্রতি মাসে নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির মূল্যও নিয়মিত সমন্বয় করা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মোট ব্যবহারের প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা কৃষি সেচ, পরিবহন খাত, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জেনারেটরের অন্যতম প্রধান জ্বালানি।
অন্যদিকে অবশিষ্ট প্রায় ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল এবং ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত যানবাহন, মোটরসাইকেল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খাতে এসব জ্বালানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মূল্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিয়মিত সমন্বয় করলেও বর্তমানে এসব পণ্যের মূল্যও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনেই রয়েছে।
জুলাই মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ফলে পরিবহন, কৃষি এবং শিল্প খাতে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাসজুড়ে ভোক্তারা আগের নির্ধারিত মূল্যেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।