
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর মেট্রো স্টেশন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে মেট্রো রেলের দৈনিক যাত্রীসংখ্যা অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পরিচালিত এমআরটি লাইন-৬ রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় গণপরিবহনে পরিণত হয়েছে। ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার যাত্রী মেট্রো রেলে যাতায়াত করছেন। সম্প্রতি রাতের সেবা ২০ মিনিট বৃদ্ধি করার পর এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। কোনো কোনো দিনে যাত্রীসংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু নতুন দুটি ট্রিপেই নয়, রাতের আগের ট্রিপগুলোতেও যাত্রী বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বাড়তি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে মেট্রো রেলের পরিচালন সময় ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতের সেবা বাড়ানোর ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ট্রেন চলাচল শেষ হওয়ার পর ডিপোতে নিয়ে ট্রেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরদিন ভোরে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করতে হয়। তাই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সময় বৃদ্ধির পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। তবে সার্বিক অপারেশন, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি সময় বাড়ানোর ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। ভবিষ্যতে পরিচালন সময় আরও বাড়ানো হলে ১৪ সেট ট্রেন একযোগে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নিয়মিত যাত্রীরা মেট্রো রেলের সেবা আরও দীর্ঘ সময় চালুর দাবি জানিয়েছেন। অনেকের মতে, রাজধানীর কর্মজীবী মানুষের সুবিধার জন্য সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভোরের ট্রেন ধরতে যাওয়া যাত্রীদের জন্য এটি বড় সুবিধা হবে।
২০২২ সালে চালু হওয়া এমআরটি লাইন-৬-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, প্রকল্পটির প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রায়াল রান শুরু করা হবে এবং আগামী বছরের মার্চে স্টেশনটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমলাপুর স্টেশন চালু হলে দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রো রেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের যাত্রীদের একটি বড় অংশ সহজেই মেট্রো রেলে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি গোপীবাগ, কমলাপুর, মান্ডা ও আশপাশের এলাকার নতুন যাত্রীও এই সেবার আওতায় আসবেন। ফলে প্রতিদিনের যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কমলাপুর স্টেশন চালুর পাশাপাশি যদি ভবিষ্যতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মেট্রো রেল পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাহলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করতে পারে।
এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প পরিচালক আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং, মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে আগামী মার্চে কমলাপুর মেট্রো স্টেশন চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে ডিএমটিসিএল।